ত্রিবেণীর পুল (তিরপিনির পুল) ত্রিবেণী কে ছিলেন? ত্রিবেণী কি কোনো রাজকন্যা ছিলেন? তার কি তিনটি বেণী ছিল? যদি তা না হয়, তাহলে কার বা কোন বিষয়ের নামানুসারে এই ত্রিবেণীর পুল? আসলে ত্রিবেণী কোনো ব্যক্তি নন বরং এটি হিন্দু ধর্মে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী এই তিনটি নদীর মিলনস্থলকে বোঝায়। 'ত্রি' মানে তিন এবং 'বেণী' মানে নদী বা স্রোত। ত্রিবেণীর পুল নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার সোনাকান্দা গ্রামে অবস্থিত। গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী এই তিনটি নদীর মিলনস্থল না থাকা স্বত্তেও এই পুলের নাম ত্রিবেণীর পুল হলো কিভাবে? এটা নিয়েই আজকের এই অনুসন্ধান। ত্রিবেণীর পুল প্রাচীন মুঘল আমলের একটি ঐতিহাসিক সেতু। ইতিহাস বিখ্যাত "তারিখ-ই- ঢাকা" গ্রন্থে এই ত্রিবেণী সেতুর কথা উল্লেখ রয়েছে, যা শীতলক্ষ্যা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগ খালের উপর অবস্থিত। এই খাল ত্রিবেণীর খাল নামে পরিচিত। পরিব্রাজক ইবনে বতুতা তাঁর বইতে প্রাচীন সুবর্ণকান্দি (বর্তমান সোনাকান্দা) গ্রামের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখান থেকে শীতলক্ষ্যা নদী হয়ে প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম তথা সোনারগাঁও পৌঁছানো যেতো। এই ঐতিহাসিক খালের উপর তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক স্থাপনা ছিল এই সেতু। ইতিহাসবেত্তা "দুর্গাদাস লাহিড়ী" তার রচিত "পৃথিবীর ইতিহাস" - চতুর্থ খন্ড গ্রন্থের ২৫৭ নং পৃষ্ঠায় এই সেতুর কথা উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন এই খালের পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র আবার কোথাও কোথাও মেঘনা নদীর সংযোগস্থলে মিলিত হয়েছে। তাই খালটির নাম হয় ত্রিবেণী আর এই খালের নামানুসারেই সেতুটির নামকরণ করা হয় ত্রিবেণীর পুল। প্রাচীন কালে সওদাগরদের আনাগোনা থাকলেও আজ এই খ্যাতি শ্রী-হীন। বর্তমান পুরনো জুবুথুবু হয়ে যাওয়া এ সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ হয়েছে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |