১লা এপ্রিল। দিনটা অন্য দিনের মতোই ছিল।
ভিমল প্রজাপতি,
তাদের বাসার কাছের একটি দোকান থেকে দোসার ব্যাটার কিনে বাড়ি ফিরলেন।
স্ত্রী ভাবনা রান্নাঘরে দোসা বানালেন। চারজন মানুষ একসঙ্গে খেতে বসলেন ভিমল, ভাবনা, চার বছরের মিশ্রি আর মাত্র তিন মাসের ছোট্ট রাহা।
খুব সাধারণ একটা পারিবারিক মুহূর্ত। হয়তো মিশ্রি খেতে খেতে গল্প করছিল। হয়তো রাহা মায়ের কোলে চুপচাপ ছিল।
তারপর হঠাৎ সবকিছু বদলে গেল।
খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চারজনের শরীর খারাপ হতে শুরু করল।
বমি, অস্বস্তি, আ"তঙ্ক। তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। ডাক্তাররা চেষ্টা করলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না মিশ্রি আর রাহাকে। তিন মাসের রাহা, যে এখনও পৃথিবীটাকে চিনতে শেখেনি। চার বছরের মিশ্রি, যার সামনে ছিল পুরো শৈশবটা।
ভিমল আর ভাবনা বেঁচে গেলেন। দুটো মেয়ে চলে গেল।
প্রথমে পুলিশ সন্দেহ করেছ দোসার ব্যাটারের ওপর। পুলিশ তদন্ত শুরু করল। ডেইরি মালিক বললেন, প্রতিদিন অনেকেই এই ব্যাটার কিনছেন তাহলে শুধু ভিমল প্রজাপতির পরিবারেই এমন হল কেন?
প্রশ্নটা পুলিশকে ভাবিয়ে তুলল।
তাছাড়া মাত্র তিন মাস বয়সের রাহার কোনভাবেই দোসা খাওয়ার কথা নয়? তাহলে কেন রাহা চলে গেল?তার শরীরেই বা কিভাবে বি#ষ এলো 🤔
তারপর সামনে এল আরও কিছু তথ্য।
পরীক্ষায় ধরা পড়ল অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইডের উপস্থিতি - একটি মারাত্মক বি#ষ।
জানা গেল, ভিমল প্রজাপতি আগেই এই রাসায়নিক কিনেছিলেন।
কিন্তু কেন? বা কী উদ্দেশ্যে? তদন্ত সেই দিকেই এগোচ্ছে।
শোনা যাচ্ছে, ভাবনার ডায়েরিতে ছেলে সন্তানের আকাঙ্ক্ষার কথা লেখা ছিল। তার খুব শখ ছিল ছেলে সন্তানেতর... ….
সেই ইচ্ছা, সেই মানত এসব তথ্য সামনে আসতেই ঘটনাটা আরও গম্ভীর হয়ে উঠেছে।
কিন্তু আইনের হিসেবের বাইরে একটা খুব নিঃশব্দ ছবি আছে।
সেই ছবিতে ভিমল প্রজাতির বাড়ি দেখলে বুঝবেন, সেখানে এখন মিশ্রির খালি বিছানা পড়ে আছে।
রাহার ছোট্ট জামা হয়তো গুছিয়ে রাখা।
যে ঘরে একসময় দুই বোনের আলাদা আলাদা শব্দ ছিল, সেখানে এখন শুধু নীরবতা।
এই যুগে এসেও মানুষ এখনো ছেলে সন্তানের জন্য পাগল।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |